Home > সম্পাদকীয় > আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ


মো: মাইনুল হাসান ঃ

আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী নেই। লড়াই হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের মধ্যে। এই নির্বাচন নির্দলীয় হলেও আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে প্রার্থী সমর্থন দেবে। এ জন্য দলগতভাবে আবেদনপত্রও নেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ৬১ জেলায় সাতশর অধিক আবেদনপত্র আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতরে জমা পড়েছে। অনেকে দলের কাছে আবেদন না করলেও তারা মনোনয়নপত্র কেনার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন জেলা শহরের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের এক হাজার নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পেতে চান বিএনপি নেতারাও। এ জন্য তারা কেবল তৎপরই নন, কৌশলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। অনেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে কেন্দ্রে আবেদনপত্রও জমা দিয়েছেন।
উড়ে এসে জুড়ে বসা সুবিধাবাদীরাও দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ নির্বাচনে অন্য কোনো দলের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা কম। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতেই আওয়ামী লীগ এ অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রমতে, ফরম কিনতে টাকা না লাগায় জেলা শহরে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র কিনতে টাকা না লাগলেও জমা দানের সময় জামানত জমা দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন না। কেবলমাত্র স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভোট দেবেন। আর অধিকাংশ ভোটারই ক্ষমতাসীন  দলের। এমন পরিস্থিতিতে পরাজয়ের কথা ভেবেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে এ ভোট অনেকটা ‘একদলীয় নির্বাচনের’ মতোই হবে। তাছাড়া দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি হবে।
ফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগই। জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সমর্থন দিতে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে দল সমর্থিত প্রার্থীর তালিকা। গত রবিবার জেলা পরিষদ নির্বাচনের ৬১ জেলার তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১ ডিসেম্বর। যাচাই-বাছাই ৩ ও ৪ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১১ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণ হবে ২৮ ডিসেম্বর। প্রত্যেক জেলায় ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকবেন।
ইসি জানিয়েছে, এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকারের চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৭ হাজার নির্বাচিত প্রতিনিধি এ নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার ইউনিয়ন পরিষদে। মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান পদে ২০ হাজার, সংরক্ষিত মহিলা আসন ও সাধারণ সদস্য পদে পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের নামও আছে আবেদনপত্রে। এত অধিক সংখ্যক মনোনয়ন প্রার্থীর

মধ্যে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। ফলে মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করবেন। তাছাড়া স্থানীয় রাজনীতির নানা মেরুকরণের কারণেও অনেকে প্রার্থী হবেন। এতে অধিকাংশ জেলাতেই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হবে আওয়ামী লীগ। অনেকে এ নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কাও করছেন। ফলে প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগ। একাংশে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুল আলম দুদু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম সোলায়মান আলী। অন্যপক্ষে আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপিসহ জেলা কমিটির কয়েকজন সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদক। গত শুক্রবার ডাক বাংলোতে জরুরি সভায় বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী এবং দুই সহ-সভাপতি আকবর চৌধূরী ও অধ্যক্ষ খাজা সামছুল আলমের নাম প্রস্তাব করা হয়।
এই জরুরি সভাকে প্রত্যাখ্যান করে শনিবার সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করা হয়। সভায় বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক সোলায়মান আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং জামায়াত-বিএনপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াসহ নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক দায়িত্ব পালন

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ