Home > শিক্ষাঙ্গন > পর্দা করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছাত্রীকে জঙ্গী অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

পর্দা করায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছাত্রীকে জঙ্গী অপবাদ দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী নিজের উপর নির্যাতনের ঘটনা বর্ননা করেছেন তার ফেসবুক আইডিতে।  তার নাম ফারজানা ইসলাম এবং তিনি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে লেখাপড়া করছেন। আমরা তার লেখাটি হুবাহু এখানে তুলে ধরছি-
গত বছর মে মাসের ৯ তারিখ সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের “উত্তরণ” বাসে সিনিয়রদের ফরমায়েশ না শোনায় তারা আমার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।
 
বাসে বা ক্যাম্পাসে কারো সাথে তেমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কচেনাজানা না থাকায় তারা কেউ সাহায্য করতে বা প্রাণে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।

আমি পর্দা করায় তারা আমাকে জঙ্গী অপবাদ দেয় আর এভাবে বর্বরতা চালায়।
আমি এর সঠিক বিচার চাই।  প্রক্টর বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে ম্যানেজ‘ করার জন্য বিচারের আশ্বাস দিলেও কোনো বিচার করেনি।
 
গত ৯ তারিখ সকাল ৬:৫০ এ মিরপুর ১৪ থেকে আমি ভার্সিটির বাসে উঠি। সেখানে আমি খালি সিট পাই এবং বসি। তার কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে আমার ব্যাগের উপর জোরে ঝুপ করে তার ব্যাগ রেখে দেয়। তাতে ব্যাগের ভেতরের জিনিস নষ্টের আশংকা থাকে। কে দিলো দেখলামই না কারণ সে আমাকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও বোধ করেনি যে আপু ব্যাগটা একটু রাখবেন?’ যাহোক আমি কিছুক্ষণ পর ব্যাগটা আর বহন করতে না পারায় (আমার নিজের ব্যাগই যথেষ্ট ভারী ছিল আর তার ব্যাগও ছিল সেরকমই ভারী। তো দুইটা ব্যাগ আমার পক্ষে রাখা সম্ভব ছিলনা অসুস্থ অবস্থায়।
 
আমি পাশের আপুকে বললাম আপু ব্যাগটা একটু রাখবেনসে বলে সেও অসুস্থ রাখতে পারবে না পিছনে কাউকে দিয়ে দাও। তাই আমি ব্যাগটা পিছনের মেয়ের কাছে দিয়ে দিলাম। সেও নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তখন ঐ ব্যাগ যার তার দেখা পেলাম। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল ব্যাগ রাখতে পারবানা কেনএইটা *”রুল”।বসে থাকতে হলে ব্যাগ রাখতে হবে।‘ [ উল্লেখ্যযিনি ব্যাগ রাখতে দিয়েছিলেন তিনি নিজে বসেই ছিলেন। তাহলে তার নিজের ব্যাগ রাখতে সমস্যা কোথায় যেখানে *”রুল” যে কেউ দাঁড়িয়ে গেলে তার ব্যাগ রাখতে হবে। ] তখন আমি তার কথার জবাবে বিনীতভাবে হাসিমুখে বললাম আপু রাখতে পারছিনা।অথচ সে ধমকের সাথে বলে, ‘কেন রাখতে পারবা না?’
এই ধরনের কথায় আমার মেজাজ খারাপ হওয়ায় চুপ করে থাকি। তখন সামনের এক মেয়ে আমার কাছ থেকে ঐ ব্যাগটা নিয়ে যায় আর আমাকে বলে “আপু ওর কাছে দিয়েন না তো কিরকম বেয়াদব‘! বড়দের সাথে কিরকম বেয়াদবি‘(?) করে! ফ্যামিলি শিখায়নাই বড়দের সাথে কেমন আচরণ করতে হয়?”
আশেপাশের বেশিরভাগ মেয়ে তখন নিজেদের মধ্যে আমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলছিল এবং আরও কয়েকটা মেয়েও আমাকে গালাগালি শুরু করে।
আমার সাথে যা তা করতেছে আবার আমার পরিবার তুলে কথা বলে তখন আমি ঠান্ডা চুপ করে সহ্য করে বসে থাকবোকেন থাকবো?? থাকা উচিত না। ( নির্দোষ কাউকে শুধুশুধুই একটা গালি দিয়ে দেখেন তোতার পরিবার তুলে বলে দেখেন তোসে কি করে…।) যারা যারা আমাকে বেয়াদব‘ বলছে তাদের আমি শুধু তাদের কথাটা ফেরত দিছি, “আপনি বেয়াদব।” আর তাকে বলছি “আপনার ফ্যামিলি থেকে শিখায়নাই?”
আমি যে এটার প্রতিবাদ করব সেটা তারা কল্পনাই করেনাই হয়তো। তাই আমার কথা শোনার সাথেসাথে চারপাশ থেকে আরো দশগুণ নির্যাতন আমার উপর শুরু করল।
তখন পিছন থেকে আরো ক্ষিপ্রতার সাথে আরেকটা ব্যাগ আমার ব্যাগের উপরে রেখে দিলো আমার বিরুদ্ধে তাদের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে। (যে নিবিনা কতো তে?!) আমি সেটা সরিয়ে দিলাম।
এরপর আমি পর্দা (নিকাব) করি বলে আমাকে জঙ্গী বলতে শুরু করল আর আমার ব্যাগ চেক করার জন্য তারা আগ্রাসী হলো। চারপাঁঁচ দফায় কয়েকজন মেয়ে মিলে আমার ব্যাগ টানাহেঁচড়া করে আমার হাতে খামচি দিয়ে নখ উল্টিয়ে ফেলারআমার কাছ থেকে ব্যাগ নিতে চায়। কিন্তু আমি আমার ব্যাগ আগলে রাখি।
প্রথমে তারা আমাকে নানারকম আজেবাজে কথা বলে অপমান করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং তারপর ব্যাগ না দেওয়ায় শুরু করে গায়ে হাত তোলা।
পেছন থেকে কয়েকটা ছেলে বাস ড্রাইভারকে বলে মামা বাস থামাও। এই মেয়েরে নামায় দাও।‘ (বাস তখন আগারগাঁও। ভার্সিটি থেকে অনেক দূরে এবং নিরিবিলি জায়গা) ড্রাইভার বাস থামাল। সেই ব্যাগের মালিক বলতেছেযেই মেয়ে সিটে বসে একজনের ব্যাগ রাখতে পারবেনা তার বাসে যাওয়ার অধিকার নাই। তারপর কয়েকটা মেয়ে আমাকে ঘাড় ধরে সিট থেকে উঠায়। তারপর আমি চলে আসার জন্য দরজার কাছে গেছি আর অদ্ভুত ব্যাপার ওরা আবার ভিন্নরকম আক্রমণ শুরু করে। আমাকে বাস থেকে বের করে দেওয়ার জন্য গাড়ি থামাইছে আবার পথ আটকে কয়েকটা ছেলে আর মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের ঐ এক কথা, “তোমার ব্যাগ দেখাও”। কোনো এক ছেলে বলতেছে “তোমার ব্যাগে কি খারাপ জিনিস (?!!) আছেদেখাতে চাচ্ছোনা কেন?”
কেউ কেউ বলতেছে বোমা আছে। ( ঠিক আছে বোমা আছে তো আমাকে বাস থেকে নামিয়ে দিলেই তো সমস্যা মিটে যায় কিন্তু আমাকে বাস থেকে নামতে দেওয়া হবেনা। আমার ব্যাগ খুলে দেখবে। এরা কোন লেভেল থেকে উঠে আসছে ভার্সিটিতে পড়তে বুঝতে পারলাম। ম্যানার‘ জিনিসটা এদের ফ্যামিলি শেখায়নাই এটার প্রমাণ তো শুরু থেকেই পেয়েছি। একটা ছেলে একটা মেয়ের ব্যাগের প্রত্যেকটা জিনিস খুলে খুলে দেখলনষ্ট করল এবং ফোন চেক করল। মারধোর গালাগালির কথা তো বাদই রাখলাম। )
আরেক ছেলে আমার দুই হাত বেঁধে রাখার মত প্রচণ্ড শক্ত করে ধরে বলে “ব্যাগ যতক্ষণ খুলে না দেখাবা ততক্ষণ তোমাকে যাইতে দিবো না। ব্যাগ খুলে দেখাও ছেড়ে দেওয়া হবে।”
ব্যাগে একটা মানুষের অনেক ব্যক্তিগত জিনিস থাকে। এইসব পশু‘ কে আমি কেন আমার ব্যক্তিগত ব্যাগ খুলে দেখাবোআমাকে কি ওদের মত রাস্তার মানুষ ভাবছে যে ভয় পেয়ে‘ সব খুলে দেখাবো?
তারপর আমার আইডি কার্ড দেখতে চায় আমি আইডি কার্ডের ছবিটা হাত দিয়ে ঢেকে রেখে দেখাই। কিন্তু তারা আমার হাত থেকে কেড়ে নেয় আইডি কার্ড।
তখনো চারপাশ থেকে বাজে কথাবার্তা গালিগালাজ তো আছেই। তখন কয়েকটা ( বা একজনঠিক খেয়াল নাই) ছেলে আমার ব্যাগ এক টানেই নিয়ে নেয়। সেই ছেলেরা আমার ব্যাগ চেক‘ করে। ব্যাগে যা যা ছিলো প্রত্যেকটা জিনিস খুলে খুলে দেখে। ব্যাগে থাকা খাবার খুলে নষ্ট করে ফেলে ।
তখন আমাকে টেনেটুনে বাসের মাঝামাঝি দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পিছনে এক ছেলেকে বলতে শুনি “ঐ ফোন চেক কর ফোন চেক কর।”
মেয়েরা মারছিল আর মানসিক অত্যাচার করছিল। একটা পর্যায়ে আরেকটা ছেলে এসে আমাকে এত জোরে একটা চড় দেয় যে আমি নিচে পরে যাই আর আমার চশমা ছিটকে পড়ে ভেঙে যায়। আমাকে তারা যেভাবে লাঞ্ছিত করেছে মারধোর করেছে তার আর মাইর ঠেকাতে গেলেই ওরা আমাকে আরও বেশি মারছে। আমি ধারণা করেছিলাম এরা বাসের মধ্যেই আমাকে খুন করে ফেলবে। মাথা ঝিমঝিম করছিল। দেখলাম একটা মেয়ে আমার একটা আঙ্গুল নিয়ে মুচড়ে দিচ্ছে। আমি তখন ঠেকানোর মত শক্তিও পাচ্ছিলাম না। তখন ভাবলাম মারতেছে মারুক। একটা ছেলে ওড়না নিয়ে টানাটানি করছে কোনপাশ থেকে কাকে ঠেকাবো?
ছেলেটা যে চড়‘ দিছে এখনো আমার চোয়ালের হাড় ব্যথা হয়ে আছে। শরীরের জায়গায় জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ব্যথা এখন আস্তে আস্তে টের পাচ্ছি। মাথায় প্রচন্ড জোরে জুতা দিয়ে বাড়ি দেওয়া হয়েছে যখন আমাকে ছেলেটা চড় দিলে নিচে পড়ে যাই। মাথা নিচে থাকায় আমি তারপর কাউকে দেখিনাই। শুধু একবার মাথা তুলে দেখলাম একটা মেয়ে স্যান্ডেল খুলে পেটাতে আসলো। মাথায় গায়ে টপটপ শব্দ পাচ্ছি খালি। বাসের কেউই আমার পক্ষে একটা কথাও বলেনাই। যখন আমাকে মারা হয় কেউই আমাকে বাঁচানোর জন্য আসেনাই। বরং যখন এক দল মারছিল আরেক দল এটা দেখে হাসাহাসি করছিল।
এরকম যে বাস্তবেও হয় আমি জানতাম না। এরকম ব্যাপারগুলো শুধু সিনেমাতেই দেখেছিযে কাউকে মারতে দেখলে কেউ এভাবে হাসে।
আমার ঐ পরিস্থিতিতে কান্নাও আসছিলো না। আমি খুব শক্ত মেয়ে। তবে মনে হচ্ছিল অজ্ঞান হয়ে যাবো হয়তো। কিন্তু আমি শুধু জানতাম নিজেকে শক্ত রাখতে হবে। নিজেকে সাপোর্ট না দিয়ে রাখলে এরা আমাকে যা খুশি তা করবে।
বাসের ভিতর আমাকে মারধোরবাসের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে চলে গান যাতে বাইরের মানুষজন বাস দেখে কিছু বুঝতে না পারে। কত সুন্দর অভিনয় এরা জানে। সারা পথ আমাকে মারতে মারতে নিয়ে আসলো। ( একটা জিনিস খেয়াল করলামখামচির চেয়ে কিল ঘুষি বেশি দেওয়া হইছে যাতে চিহ্ন না থাকে। বিশেষ করে মাথায় মারা হইছে মাথায় মারলে তো আর কিছু বোঝা যায়না!
ভার্সিটির কাছাকাছি আসার সাথেসাথে তারা সবাই চুপ। আমি আবার তাদের আগের মুখোশটা দেখতে পেলাম। সবাই কত নিরীহকত ভদ্র!! তারা তখন নিজেরা দাঁড়িয়ে আমাকে বলে বসেন‘!!
বাস চলাকালীন সময়ে কয়েকটা ছেলে বলাবলি করছিল,’প্রোক্টররে ফোন দে। প্রোক্টররে ফোন দে।‘ আরও কি জানি রাজনীতির ষন্ডাপান্ডাদেরও ফোন দিচ্ছিলো দেখছিলাম।
হয়তো ভাবতেছিল এসব শুনে আমি ভয় পাবো। (!) কিন্তু আমার মধ্যে ভয়ের প্রতিক্রিয়া না দেখে ওরাই ভয় পেয়ে যায় কিছুটা!
তারপর বাস থামানো হয় প্রক্টর অফিসের সামনে। এক সহকারী প্রক্টর আসে এবং আমাকে সাথে করে সেই প্রক্টরের রুমে নিয়ে যায়। তখনো সবাই একত্র। আমি একা ভিক্টিম। আমার পাশে তখনো কেউ নাই। প্রক্টর এর টেবিলে দেখলাম আমার ব্যাগটা। আমি বাসায় কাউকে জানাতে পারিনাই তখনো। তখন আমি যে এখানে নিয়ে আসছে তার কাছে বলি, ” আমি কি একটা ফোন করার অনুমতি পেতে পারি স্যার?” কয়েকবার রিকোয়েস্ট করার পরেও যখন এড়িয়ে যাচ্ছে তখন আমি নিজেই ব্যাগ থেকে বের করে ফোনটা হাতে নিতেই তিনি আমার হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে যেতে উদ্যত হলেন তাই আমি ফোন আবার ব্যাগেই রেখে দিলাম। আমাকে ফোন করতে দেওয়া হচ্ছিল না! এর কারণ কি?
যাহোক তারপর বাসের সবাই আমার বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মিথ্যা কথা অতিরঞ্জিতভাবে বলতে থাকে আমি কিছু বলতে চাইলে আমাকে বারবার ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয় প্রক্টরের রুমে যে নিয়ে আসে সেই সহকারী প্রক্টর। বলে যে, ‘চুপ! তোমাকে পরে বলতে দেওয়া হবে।‘ ওরা আমাকে যেভাবে মারছিল আমি তাদের মাইর‘ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে সেটা ঠেকাতে গিয়ে যেটুকু করেছি সেটা নিয়ে তারা প্রোক্টরের কাছে অতিরঞ্জিত করে দেখিয়ে আবেগীভাবে কথা বলে প্রক্টরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে গলিয়ে এমনভাবে নিজেদের পক্ষে নিয়ে এসেছে যে তখন ঐ সহকারী প্রক্টর আমার বক্তব্য পুরোপুরি না শুনে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘ওর মেন্টাল সমস্যা আছেতোমরা যাও কোনো সমস্যা নাই তোমাদের কোনো ক্ষতি হবেনা।
ওরা খানিকটা ভয় পাইছে। যাওয়ার আগে প্রক্টর স্যারকে আমি উপস্থিত থাকায় একটু লজ্জাতে আমতা আমতা করে বলে স্যার ও বারবার কাকে যেন ফোন করতে চাচ্ছিল স্যার একটু দেখবেন আমাদের যেন ক্ষতি না হয়।
তখন একটা মহিলা ছিল সে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলতেছে “না না!! ও কি করবে! ও কিছু করতে পারবে বলে তোমাদের মনে হয়?! হেহ! ” (যিনি আবার পরবর্তীতে বলেন উনি নাকি আমার বোনের মত!
শেষমেষ আমাকে পাগল‘ উপাধি দিয়ে এই ঘটনা মিটমাট‘ করার নাম করে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করা হল।
আমি তখন ঐ টাইপ লোকদের সাথে ভদ্রতা ফোন করার অনুমতি না চেয়ে নিজেই ফোনটা ব্যাগ থেকে বের করে আব্বুকে ফোন করি।
তখন হালকা বিনোদনের জন্য আর আমার লেভেল‘ যাচাই করার জন্য প্রোক্টর সাহেব আমাকে প্রশ্ন করেন, “তোমার বাবা কি করেন? ” [ খুবই কমন প্রশ্নআমার ক্ষমতার দৌড় কতটুকুআমার সাথে কোনো অন্যায় করলে আমি সেটার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারব কি না – এগুলোর উত্তর জানার জন্যই প্রশ্নটা করা। ] “কোথা থেকে পাশ‘ করছেন?” ঠিক এই ল্যাঙ্গুয়েজে। এটা আমার বাবাকে অপমান করা। মানে আমাকে অপমান করা। তারা আমাকে অপমান করার জন্যই মূলত এভাবে জিজ্ঞেস করেছে। এভাবে তখন ঐ প্রক্টর আর ঐ লোক আমাকে কিছু কথার মাধ্যমে অপমানের চেষ্টা করেন। ভাবছেন হয়তো এতে আমি দুর্বল হয়ে ঘায়েল হয়ে যাবো।
তখন ঐ আক্রমণের আকস্মিকতা আর প্রক্টরের রুমের লোকগুলোর আচরণে প্রক্টরের অপমানজনক কথাবার্তার উত্তর আমি খুব মিষ্টি গলায় বিনীত ভঙ্গিতে দিতে পারিনা। আমি দৃঢ়তার সাথে উত্তর দেই ( কেউ যদি এসব অপমানের চেষ্টা হজম করে মিষ্টি করে গদগদ ভঙ্গিতে কথা বলতে পারেন হাত তুলেন!) আর এজন্য তারা এখন বলতেছে আমি নাকি তাদের সাথে “বেয়াদবি” করেছি!!
এবং শেষ পর্যন্ত অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে!
মামলা করতে সাক্ষী লাগবে আর ঐ বাসের ভাল কেউও সাক্ষ্য দিবেনা কারণ ঐ বাসে তাদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়।
ঘটনাটা অনেকে অতিরঞ্জিত মনে করতে পারে কিন্তু প্রত্যেকটা অক্ষর সত্যি। একটা লাইনও বাড়িয়ে লিখিনি বরং সংক্ষেপে লিখতে গিয়ে অনেক কিছু বাদ দিয়েছি। আর অনেকে ঐ সমস্ত দুস্কৃতিকারীদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ শুনে সেটাই সত্যি মনে করবেন। সেক্ষেত্রে বলব নিজে নিরপেক্ষ হয়ে সত্যিটা আগে জেনে নিবেন।
আর ঘটনাটা ফেসবুকে লিখেছিলাম তখন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দিতে বলেছিল তাই ডিলিট করে দিয়েছিলাম। এসব লিখতে মানা করেছিল বলেছিল এসব লিখলে কেউ পাশে থাকবে না। কিন্তু না লিখলেও পাশে থাকেনিবিচার করেনি এদের অপরাধের। তাই আবার লিখলাম।
আর পুরো বাসে কেউ আমাকে নির্যাতন করার সময় এগিয়ে আসেনি। প্রত্যেক বাসে বাস কমিটি থাকে তারা এসব করেছে। তাদের বিপক্ষে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না যে কারণে আমাকে মারার সময় কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি যেহেতু তাদের ঐ বাসে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়তাই তারা সাক্ষীও দিবেনা কেউ কারন তাহলে তাদের জীবনও হুমকির সম্মুখীন হবে।
আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »
শিরোনামঃ